Shop
সাইয়িদা আমাতুল্লাহ তাসনিম রহ. উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলিম, শাইখ, হাকিম, সাইয়িদ আবদুল হাই হাসানি রহ.-এর কন্যা এবং মুফাক্কিরে ইসলাম মাওলানা সাইয়িদ আবুল হাসান আলি নদভি রহ.-এর সম্মানিতা বোন।
শৈশব
তিনি ১৮ জুন ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দ, রোজ বৃহস্পতিবার জন্মগ্রহণ করেন। যেহেতু তিনি একটি শিক্ষিত পরিবারের সদস্য ছিলেন, তাই তিনি একটি আদর্শ ইসলামি পরিবেশে বেড়ে উঠেছিলেন এবং পড়া ও শেখার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল।
কর্মজীবন
তার সম্মানিত পিতা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও একেকজন বিখ্যাত আলিম, দায়ি ও লেখক ছিলেন; তাই তার পড়ার প্রতি এত আগ্রহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল যে, তার আশেপাশে থাকা কোনো কিতাব ও বই না পড়ে তিনি রেখে দিতেন না। এভাবেই ধীরে ধীরে তার লেখালেখির আগ্রহ বেড়ে যায় এবং তার প্রচেষ্টা, আগ্রহ, একাগ্রতা, শিক্ষিত পরিবারের পরিবেশের প্রভাবে তিনি পর্যাপ্ত সাবলীলতার সাথে লেখালেখি শুরু করেন। সে সময়েই তিনি ‘মেরি বে-জুবান উস্তানিয়া’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন, যা তৎকালীন নারীদের চমৎকার একটি ম্যাগাজিন ‘মুসলিমাহ’-তে প্রকাশিত হয়েছিল।
বিবাহ
1926 সালে, তিনি তার প্রথম চাচাতো ভাই শাইখ আবুল খায়ের হাসানি রহ.-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি নিজেও একজন চমৎকার কবি, সাহিত্যিক, আলিম ও হাদিসের হাফিজ ছিলেন। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতা তার লেখালেখি ও কবিতায় আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। তার তিনজন সন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় তারা সবাই শৈশবেই মারা যায়। এটি তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
সন্তানের মৃত্যুতে যদিও তিনি শোকাহত ছিলেন, কিন্তু এটি ঈমান ও আমলে তাকে পরবর্তী জীবনে দৃঢ় ও মজবুত করে তুলেছিল। তিনি চমৎকার কবিতা লিখতে পারতেন, যা তিনি ধৈর্যধারণ করতে এবং সান্ত্বনা পেতে আল্লাহর কাছে দুআ ও মুনাজাতে ব্যবহার করতেন। তার দুআমূলক কবিতাসমূহ পরবর্তী সময়ে সংকলিত এবং প্রকাশিত হয়েছিল—যা দ্বীনদার মুসলিমদের জন্য একটি মূল্যবান উপহার। তিনি 1947 খ্রিস্টাব্দে হজ করেন।
রচনাবলি
০১. ‘যাদে সফর’। তার সবচেয়ে বড়ো ভাই ডক্টর সাইয়্যেদ আব্দুল আলি হাসানি রহ. তাকে ইমাম নববি রহ.-এর ‘রিয়াদুস সালিলিন’ অনুবাদ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেটি তিনি আরও কিছু বিশদ বিবরণ ও টীকাসহ অনুবাদ করেছিলেন। এটি ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছিল।
০২. মুনাজাতে হাতেফ
০৩. বাবে করম (মুনাজাতসমগ্র)
০৪. বাচ্চুঁ কি কিসাসুল আম্বিয়া (১-৩)
০৫. আখলাকি বুরাইয়াঁ আওউর উনকা ওয়াবাল (‘বোনদের প্রতি নসিহত’ নামে অনূদিত হয়ে যা আপনার হাতে এখন।)
০৬. দিয়ারে হাবিব
০৭. মাউজে তাসনিম (দরুদ ও সালামের একটি সমগ্র)
এছাড়াও তিনি বিভিন্ন ইসলামি ম্যাগাজিনে লেখালেখি করতেন।
মৃত্যু
তিনি 28 জানুয়ারি, 1974 সালে এই আল্লাহর এই বান্দি ইনতিকাল করেন। মহান আল্লাহ যেন তার কবরকে জান্নাতের টুকরা বানিয়ে দেন। তাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন। তার রচনাবলিকে তার নাজাতের উসিলা বানান। আমিন।